সুলতানি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা কেমন ছিল?

কেন্দ্রীয় শাসনের শীর্ষে ছিলেন স্বয়ং সুলতান। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বশক্তির আধার এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। মুসলিম আইন অনুসারে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সমগ্র সুন্নি সম্প্রদায় বা মিলাৎ -এর উপর ন্যস্ত, এবং এই মিলাৎ -ই সুলতান নির্বাচনের একমাত্র অধিকারী। বাস্তবে এ ধরনের নির্বাচন সম্ভবপর না হওয়ায় সুলতানের মনােনীত উত্তরাধিকারীই সিংহাসনে বসতেন, তবে এ ধরনের মনােনয়ন আমির ওমরাহদের দ্বারা অনুমােদিত হতে হত। সুলতানি আমলে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে সর্বদা বংশানুক্রমিক অধিকারের দাবি স্বীকৃত হত না। মুসলিম আইন অনুসারে যে কোনও মুসলিম সিংহাসনে বসার অধিকারী ছিল। এ কারণে অনেক সময় ক্ষমতাশালী নেতা বাহুবলের মাধ্যমে সিংহাসনে বসতেন।

নামে খলিফার অধীনস্থ হলেও সুলতান সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। সুলতানকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি বা ছায়া বলে মনে করা হত এবং তিনি কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী দেশশাসন করতেন। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক, সামরিক ও আইনগত সকল ক্ষমতার উৎস। তিনি ছিলেন প্রধান শাসনকর্তা, আইনপ্রণেত, সেনানায়ক ও ধর্মরক্ষক। তিনি পদস্থ কর্মচারীদের নিয়ােগ ও পদচ্যুত করতেন। রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা সুলতানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সুলতানি শাসনে সুলতান ও রাষ্ট্র সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। সুলতানের এই নিরঙ্কুশ ক্ষমতার পিছনে ছিল তার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া বলবন, আলাউদ্দিন বা মহম্মদ বিন তুঘলকের পক্ষে তাদের স্বৈরশাসন অব্যাহত রাখা সম্ভবপর ছিল না। সুলতানদের স্বৈরাচারিতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডঃ কে. এম. আসরফ বলেন যে, “কোরানের রাজনৈতিক আদর্শের যতই উদার ভাষ্য করা হােক না কেন, রাজশক্তির এহেন জ্বলন্ত ও নির্লজ্জ স্বেচ্ছাচারিতার সাথে তাকে কিছুতেই খাপ খাওয়ানাে যায় না।”

সুলতানের স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার পক্ষে অবশ্য কিছু যুক্তি ছিল। এই সময় ভারতের নবগঠিত সুলতান শাহিকে নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। একদিকে হিন্দু রাজন্যবর্গের বিরােধিতা এবং অপরদিকে আক্রমণ সুলতানের স্বেচ্ছাচারিতার পথকে সুগম করে। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনসাধারণ যে ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে লালিত হয়েছিল, তাতে তাদের পক্ষে সুলতানের স্বেচ্ছাচারিতাকে মেনে নিতে কোনও অসুবিধা হয় নি। সুলতানি আমলে সুলতানের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করার মতাে কোনও ক্ষমতা উলেমাদের ছিল না। এ সত্ত্বেও সুলতানের ক্ষমতা কখনােই সীমাহীন ছিল না — এর কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।

সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনােনয়ন ও শাসন পরিচালনার নানা ক্ষেত্রে সুলতানরা অভিজাত সম্প্রদায় বা আমির ওমরাহদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এই নির্ভরতা সুলতানের স্বেচ্ছাচারিতাকে নিশ্চয়ই সীমায়িত করেছিল। সুলতানের পক্ষে ইসলামীয় ঐতিহ্য এবং শরিয়তের বিধান একেবারে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। মধ্যযুগে সুলতানদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্য বিস্তার। যুদ্ধদ্যোমের জন্য প্রজাবর্গের সঙ্গে সুলতানের একটি বােঝাপড়ার প্রয়ােজন হয়। চরম স্বৈরতন্ত্রের দ্বারা তা সম্ভব নয়। রাজস্ব আদায়কে সুনিশ্চিত করতে গেলে প্রজাবর্গের প্রতি শাসকের কিছু দায়িত্ব থাকে। এই দায়িত্ববােধ সীমাহীন স্বৈরতন্ত্রের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মন্ত্রীবর্গ: সুলতানের একার পক্ষে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব হত না। তাকে সাহায্য করার জন্য একাধিক মন্ত্রী ও কর্মচারী ছিলেন। মন্ত্রীরা সুলতান কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং তাদের কার্যকালও ছিল সুলতানের ইচ্ছাধীন। মন্ত্রীদের সংখ্যা, ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিভিন্ন সুলতানের আমলে বিভিন্ন রকম ছিল। গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র বুঘরা খা তার পুত্র সুলতান কায়কোবাদকে চারজন মন্ত্রী নিয়ােগ করার পরামর্শ দেন সে। যুগে কোনও মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয় নি বা যৌথ নেতৃত্বের ধারণাও গড়ে ওঠে নি। মন্ত্রিসভা না হলেও মজলিস ই খলওয়াত নামে একটি সভা সুলতানকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দিত। এছাড়া, উচ্চ অভিজাত ও দায়িত্বশীল কর্মীদের সভা বার ই খাস জরুরি অবস্থায় সুলতানকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করত। এইসব সভার পরামর্শ গ্রহণ করা বা না করা সম্পূর্ণভাবে সুলতানের ইচ্ছাধীন ছিল।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সুলতানের পরেই ছিল ওয়াজির বা প্রধানমন্ত্রীর স্থান। সাধারণভাবে ওয়াজিরের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করা ছিল না। ওয়াজিরের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সুলতানের সঙ্গে তার সম্পর্কের উপরেই তার ক্ষমতা নির্ভর করত। মহম্মদ বিন তুঘলকের ওয়াজির খাজা জাহান সুলতানের অনুপস্থিতিতে রাজধানীতে সুলতানের কার্যাবলী পরিচালনা করতেন। ফিরােজ তুঘলকের উজির খান ই জাহান রাজস্ব বিভাগের সর্বেসর্বা ছিলেন। তিনি দীর্ঘ আঠারাে বছর ধরে ওয়াজির এর দায়িত্ব পরিচালনা করেন। এই সময়টিতেই সাম্রাজ্যে ওয়াজির -এর সর্বোচ্চ প্রভাব অনুভূত হয়। প্রথমদিকে সাধারণভাবে সামরিক কাজে দক্ষ ব্যক্তিরাই ওয়াজির পদে নিযুক্ত হতেন। চতুর্দশ শতক থেকে রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদেরই এই পদে নিয়ােগ করা হতে থাকে। ওয়াজির ছিলেন অর্থ দপ্তরের প্রধান। তার প্রধান কাজ রাজস্ব আদায় ও প্রশাসন পরিচালনা হলেও, সামগ্রিকভাবে তিনি অসামরিক প্রশাসনের প্রধান তত্তাবধায়ক ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রশাসনের মেরুদণ্ড। সামরিক বিভাগের প্রয়ােজন সম্পর্কেও তাকে জানতে হত। ডঃ আর. এস. ত্রিপাঠি -র মতে, তিনি ছিলেন প্রজাসাধারণ ও সুলতানের মধ্যে যােগসূত্রবিশেষ। তার দপ্তরের নাম ছিল ‘দেওয়ান ই ওয়াজিরাৎ’।

দেওয়ান ই ওয়াজিরাৎ -এর পর সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ দপ্তর ছিল দেওয়ান ই আর্জ বা সামরিক বিভাগ। এই বিভাগের প্রধানকে বলা হত ‘আরিজ ই মামালিক।’ সুলতানি সেনাবাহিনী সংগঠন ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল এই বিভাগের উপর। ‘আরিজ ই মামালিক’ সেনাসংগ্রহ, সেনাদের বেতন নির্ধারণ ও প্রদান, যুদ্ধসরঞ্জাম সংগ্রহ, সেনাদলের যােগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বজায় রাখা, দুর্নীতি দমন প্রভৃতির দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি সেনাবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন মাত্র — সর্বাধিনায়ক নন। সেনাবাহিনীর প্রধান বা প্রধান সেনাপতি ছিলেন সুলতান স্বয়ং। ‘দেওয়ান ই আর্জ’ দপ্তরটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন গিয়াসউদ্দিন বলবন। পরবর্তীকালে আলাউদ্দিন খলজি সেনাবাহিনীতে নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি বন্ধের জন্য তিনি নিয়মিত সেনা সমাবেশ, সেনা ও অশ্বের নিয়মিত যােগ্যতা নির্ধায়ক পরীক্ষা, অশ্বচিহ্নিতকরণ এবং প্রতিটি সেনার বর্ণনাত্মক বিবরণ রাখা প্রভৃতির ব্যবস্থা করেন। দিল্লির সুলতানদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন এবং সেনাদের নগদে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

‘দেওয়ান ই রিসালত’ হল আরেকটি গুরত্বপূর্ণ দপ্তর। এই বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ক আছে। ডঃ কুরেশি এবং ডঃ সতীশ চন্দ্র বলেন যে, এই বিভাগ ধর্মীয় বিষয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যােগ্য পণ্ডিত ও সাধু সন্তদের বৃত্তিদান প্রভৃতি বিষয় তদারকি করত। এই বিভাগের প্রধান ছিলেন সদর উস সুদুর। ডঃ সতীশ চন্দ্র বলেন যে, সাধারণত প্রধান কাজি এই পদ অলঙ্কৃত করতেন। অপরপক্ষে, ডঃ হাবিবউল্লাহর মতে এটি ছিল বৈদেশিক দপ্তর। বিদেশি রাজদূত ও প্রতিনিধিরা এই দপ্তরের মাধ্যমে কুটনৈতিক যােগাযােগ করত।

সরকারি চিঠিপত্র, দলিল দস্তাবেজ ও যােগাযােগের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর ছিল ‘দেওয়ান ই ইনসা’। সুলতানের অতি বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এই পদে নিযুক্ত হতে পারতেন না। তার অধীনে বহু করণিক নিযুক্ত ছিল। এই দপ্তরের মাধ্যমে অন্যান্য রাষ্ট্র, প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সুলতানের গােপন ও সাধারণ চিঠিপত্র আদান প্রদান চলত।

উল্লিখিত দপ্তরগুলি ছাড়াও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য সরকারের আরও কিছু দপ্তর ছিল। সাম্রাজ্যের কোথায় কী ঘটছে তা জানবার জন্য সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে বারিদ বা গুপ্তচর নিয়ােগ করা হত। এই দপ্তরের নাম ছিল ‘বারিদ ই মামালিক’ এবং অন্যান্য দপ্তরের প্রধানকে বলা হত ‘বারিদ ই খাস’। সুলতানের ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দ্য এবং রাজপ্রাসাদ ও রাজপরিবারের বিভিন্ন বিষয় তদারক করার জন্য একটি দপ্তর ছিল। এর প্রধানকে বলা হত ‘ওয়াকি ই দার’। এই দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন কারখানা ছিল এবং এগুলি থেকে রাজপরিবারের প্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদি সংগৃহীত হত। ‘দেওয়ান ই আমির কোহী’ ছিল কৃষি দপ্তর। এটি মহম্মদ বিন তুঘলক পত্তন করেন। ফিরােজ তুঘলক ক্রীতদাসদের দেখাশােনার জন্য একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নাম ‘দেওয়ান ই বন্দেগান’। ‘দেওয়ান ই ইমারত’ হল পূর্ত বিভাগ। ‘দেওয়ান ই ইস্তাক’ হল সরকারি পেনশন বিভাগ। ‘দেওয়ান ই খয়রাত’ হল দাতব্য বিভাগ এই জাতীয় আরও বেশ কিছু দপ্তর বা বিভাগ ছিল।

বিচার ব্যবস্থা: সুলতানি যুগে দেশে কোনও সংগঠিত বিচার ব্যবস্থা ছিল না। সুলতান ছিলেন ন্যায় বিচারের উৎস। তিনি নিজে সপ্তাহে দুদিন বিচার করতেন। তিনি নিজে যে সব মামলার বিচার করতেন না সেখানে প্রধান কাজি বা ‘কাজি উল কাজাং’ ছিলেন প্রধান বিচারক। প্রধান কাজির পরামর্শ অনুসারে সুলতান অন্যান্য বিচারকদের নিয়ােগ করতেন। প্রধান কাজি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার আপিলের বিচার করতেন। মুফতি শরিয়তি আইনের ব্যাখ্যা করতেন এবং সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালিত হত। অমুসলিমদের নিজ নিজ আইন অনুযায়ী বিচার হত। গ্রামাঞ্চলে বিচারের ভার ছিল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপর এবং সেখানে বিচার হত পুরােনাে আইন অনুসারে। ফৌজদারি দণ্ডবিধি ছিল খুবই কঠোর এবং অঙ্গচ্ছেদ ছিল সাধারণ প্রথা। ফিরােজ তুঘলক দণ্ডবিধির কঠোরতা কমানোর চেষ্টা করেন।

পুলিশ ব্যবস্থা: পুলিশি ব্যবস্থা ও শহরের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল ‘কোতােয়াল ’ নামক কর্মচারীর হাতে। তাকে সাহায্য করত ‘মুহতাসিব’ নামক কর্মচারী। ‘কোতােয়াল’ -এর অধীনে পুলিশ বাহিনী ছিল। গ্রামাঞ্চলে গ্রামসভা এবং গ্রাম্য চৌকিদার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করত।

রাজস্ব ব্যবস্থা: সুলতানি যুগে সরকারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল সাধারণত ছয়টি— (১) ভূমিরাজত্ব, (২) জাকাৎ বা মুসলিমদের উপর আরােপিত ধর্মকর, (৩) জিজিয়া, (৪) খামস বা যুদ্ধে লুণ্ঠিত সম্পদ, (৫) খান ও গুপ্তধন এবং (৬) উত্তরাধিকার বিহীন সম্পত্তি। এ ছাড়াও সরকার আরও কিছু কর আদায় করত। যেমন— (৭) সোরা কর, (৮) জলকর ইত্যাদি। আলাউদ্দিন খলজি ও গিয়াসউদ্দিন তুঘলক রাজস্ব বিভাগে নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। সম্ভবত আলাউদ্দিন -ই প্রথম জমি জরিপের প্রথা প্রবর্তন করেন। এর ফলে কৃষক ও সরকারের মধ্যে বণ্টন-ব্যবস্থা অনেকটা ন্যায়সঙ্গত হয়। আলাউদ্দিন কৃষকদের উৎপাদিত শস্যে রাজত্ব প্রদানে উৎসাহ দিতেন, তবে এ সময় নগদ অর্থেও রাজস্ব নেওয়া হত। ত্রয়ােদশ শতকে রাজস্বের হার ছিল সম্ভবত উৎপন্ন শস্যের এক-পঞ্চমাংশ। আলাউদ্দিন তা বৃদ্ধি করে উৎপন্ন শস্যের অর্ধাংশ করেন। তার পুত্রের শাসনকালে রাজস্বের এই উচ্চ হার কমিয়ে দেওয়া হয়। গিয়াসউদ্দিন তুঘলক রাজস্ব নীতির কঠোরতা অনেকটা হ্রাস করেন এবং প্রাকৃতিক কারণে শস্যহানি হলে আংশিকভাবে রাজস্ব মকুব করার নীতি গ্রহণ করেন। মহম্মদ বিন তুঘলক প্রদেশগুলিকে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসেব দিতে বাধ্য করেন এবং সরকারি ব্যয়ে পতিত জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হন। ফিরােজ তুঘলক রাজস্ব বিভাগে নানাপ্রকার উদার সংস্কার প্রবর্তনে উদ্যোগী হন এবং বিভিন্ন অবৈধ কর বাতিল করেন।