সুলতানি শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য কি ছিল?

১২০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবক ভারতে সুলতানি শাসনের সূচনা করেন। ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩২০ বছর ধরে পাঁচটি রাজবংশ ভারতের বুকে রাজত্ব করে। এই কালপর্বে ভারতের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কেবলমাত্র সুলতানি সাম্রাজ্য বিস্তৃতই হয় নি — এই বৃহৎ সাম্রাজ্যে একটি সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলতানি শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।

(১) দিল্লি সুলতানি ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এর সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল সুলতানের হাতে এবং তিনিই ছিলেন এর সর্বেসর্বা।

(২) দিল্লি সুলতানিতে একটি অতি-কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং সম্রাট ছিলেন সকল ক্ষমতার উৎস।

(৩) কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা হলেও এখানে প্রাদেশিক শাসনও প্রতিষ্ঠিত ছিল।

(৪) দিল্লির সুলতানরা নিজেদের বাগদাদের খলিফা -র অধীনস্থ বলে ঘােষণা করলেও, বাস্তবে তারাই ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান — খলিফা নন।

(৫) দিল্লির সুলতান শাহিকে অনেকে ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট বললেন এর যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক আছে।

(৬) সুলতানি শাসন ব্যবস্থায় আব্বাসীয়, গজনি ও সেলজুক শাসন পদ্ধতির প্রভাব দেখা যায়।

(৭) বাস্তববাদী সুলতানগণ ভারতীয় শাসনতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করেন নি। তাই বিদেশি ঐতিহ্য এবং ভারতীয় উপাদানের সমন্বয়ে সুলতানি শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

(৮) বাস্তব প্রয়ােজনবােধে দিল্লির সুলতানরা বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিষ্ঠান ও ধারণার জন্ম দেন, যা তাদের মর্যাদা ও ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।

(৯) চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে সুলতানি শাসন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলির শাসন ব্যবস্থাও সুলতানি শাসনের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারে নি — এমনকী মােগল শাসন ব্যবস্থাতেও সুলতানি শাসনের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।