Kingdom of Kamarupa: কামরূপ রাজ্যে

কামরূপ রাজ্যে
কামরূপ রাজ্যের ম্যাপ

বর্তমান আসাম অতি প্রাচীন অঞ্চল। প্রাচীন যুগে এই অঞ্চলটি কামরূপ (Kamarupa) বা প্ৰাগজ্যোতিষপুর নামে পরিচিত ছিল। মহাভারত ও পুরাণে প্রাগজ্যোতিষপুরের উল্লেখ আছে।

এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে জানা যায় যে, কামরূপ রাজ্য গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের বশ্যতা স্বীকার করে একটি করদ-মিত্র রাজ্যে পরিণত হয় এবং সমুদ্রগুপ্তই সর্বপ্রথম বর্মন উপাধিধারী স্থানীয় নেতা জনৈক পুষ্যবর্মন -কে কামরূপের শাসক নিযুক্ত করেন।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযােগে কামরূপ-রাজ ভূতিবর্মন স্বাধীনতা ঘােষণা করেন এবং মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি দাভক বা ঢাকা এবং সুরমা উপত্যকা বা শ্রীহট্ট জয় করেন। বাণভট্টের হর্ষচরিত থেকে জানা যায় যে, ভূতিবর্মনের পৌত্র সুস্থিতবর্মন -এর সঙ্গে পরবর্তী-গুপ্তবংশীয় রাজা গৌড়ের অধিপতি মহাসেনগুপ্তর সম্পর্ক ভালাে ছিল না। তিনি মহাসেনগুপ্ত -র হাতে পরাজিত হন।

সুস্থিতবর্মনের পর তার পুত্র। ভাস্করবর্মন কামরূপের সিংহাসনে বসেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী রাজ্য গৌড়ের অধিপতি শশাঙ্ক প্রবল শক্তিশালী হয়ে উঠলে আতঙ্কিত ভাস্করবর্মন কনৌজ-অধিপতি হর্ষবর্ধনের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। শশাঙ্কের জীবিতাবস্থায় এই জোট তার কোনও ক্ষতি করতে পারে নি।

৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর হর্ষবর্ধন বাংলার পশ্চিম অংশ দখল করেন এবং ভাস্করবর্মন রাজধানী কর্ণসুবর্ণ সহ ভাগিরথী ও পদ্মার পূর্বদিকের অঞ্চলসমূহ অধিকার করেন।

চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে কামরূপে আসেন। তার রচনা থেকে জানা যায় যে, ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও ভাস্করবর্মন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হিউয়েন সাঙকে যথেষ্ট সমাদর করেন — এমনকী কনৌজ ও প্রয়াগের ধর্মসভায় নিজে উপস্থিত হন। তার মৃত্যুর পর এই রাজবংশের অবসান ঘটে।