Later Gupta Dynasty: পরবর্তী গুপ্ত রাজবংশের ইতিহাস

Later Gupta Dynasty: পরবর্তী গুপ্ত রাজবংশের ৫৯০ খ্রি: ম্যাপ
The Later Gupta kingdom at its zenith around c. 590 CE, and its neighbours

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর মগধ ও মালবে ‘পরবর্তী গুপ্ত’ (Later Gupta Dynasty) নামধারী বেশ কিছু রাজার রাজত্বের কথা জানা যায়। এদের সঙ্গে মূল গুপ্ত বংশের কী সম্পর্ক ছিল, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মতে তারা ছিলেন গুপ্তদের অধীনস্থ সামন্ত। গুপ্ত সম্রাটদের দুর্বলতার সুযােগে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বিহারের গয়া জেলার নিকটবর্তী অঞ্চলে প্রাপ্ত আদিত্যসেনের আফসাদ শিলালিপি এবং দ্বিতীয় জীবিতসেনের দেও-বারনার্ক শিলালিপি (বিহারের সাহাবাদ জেলা) থেকে ‘পরবর্তী গুপ্ত’ -দের সম্পর্কে জানা যায়।

রাজকাহিনী: পরবর্তী গুপ্ত বংশের (Later Gupta Dynasty) প্রথম স্বাধীন রাজা ছিলেন কৃষ্ণগুপ্ত। সম্ভবত ৫১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্বাধীন রাজবংশের সূচনা করেন। এই রাজবংশ প্রায় দুশাে বছর রাজত্ব করেছিল এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে এই বংশের মােট ১১ জন রাজার কথা জানা যায়। এই বংশের চতুর্থ রাজা কুমারগুপ্ত শক্তিশালী নরপতি ছিলেন। তিনি মৌখরি-রাজ (Maukhari) ঈশানবর্মনকে (Ishana-varman) পরাজিত করে এলাহাবাদ (প্রয়াগ) পর্যন্ত রাজ্যবিস্তার করেন। পরবর্তী নরপতি দামােদরগুপ্ত মালব জয় করেন এবং রাজপুতানার কিছু অংশও তার অধিকারে আসে। এই সময় থেকে মালবের উপর পরবর্তী গুপ্তদের স্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

তার পুত্র মহাসেনগুপ্ত -র আমলে তাদের কর্তৃত্ব বহুদূর বিস্তৃত হয়। তিনি কামরূপ-রাজ (Kamarupa) সুস্থিতবর্মনকে পরাজিত করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। হর্ষচরিত এ তাকে ‘মালবের রাজা’বলে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং মালব ও বাংলার বেশ কিছু অঞ্চল তার সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। তার এই গৌরব অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। উত্তরে হিমালয় অঞ্চল থেকে তিব্বতী, দক্ষিণ দিক থেকে চালুক্য এবং পশ্চিম দিক থেকে বলভীর মৈত্রকদের (Maitraka) আক্রমণে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তার সেনাপতি শশাঙ্ক (Shashanka) গৌড়ে স্বাধীনতা ঘােষণা করেন ও মগধ জয় করেন। সম্ভবত এই বিপর্যয়ের মধ্যে মহাসেনগুপ্তের মৃত্যু হলে তার নাবালক পুত্রেরা নিকট-আত্মীয় থানেশ্বরের পুষ্যভূতি-বংশীয় (Pushyabhuti of Thaneshwar) রাজা প্রভাকরবর্ধনের কাছে আশ্রয়লাভ করেন। এই পুত্রদের অন্যতম মাধবগুপ্ত প্রভাকরবর্ধনের (Prabhakaravardhana) সহযােগিতায় মালব পুনরুদ্ধার করেন।

তার পুত্র আদিত্যসেন শক্তিশালী রাজা ছিলেন। তিনি মৌখরি ও নেপালের রাজবংশের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তার উপাধি ছিল মহারাজাধিরাজ। মালবের অন্যতম রাজা দেবগুপ্ত -র সঙ্গে থানেশ্বরের পুষ্যভূতি রাজাদের সম্পর্ক ছিল শত্রুতাপূর্ণ। তাই দেবগুপ্ত গৌড়রাজ শশাঙ্কের সঙ্গে মিলিত হয়ে থানেশ্বর-রাজ প্রভাকরবর্ধনের জামাতা কনৌজের অধিপতি গ্রহবর্মনকে আক্রমণ করেন। এই যুদ্ধে গ্রহবর্মন পরাজিত ও নিহত হন।

পরবর্তী গুপ্ত বংশের শেষ রাজা ছিলেন দ্বিতীয় জীবগুপ্ত। তিনি অষ্টম শতাব্দীর প্রথমদিকে রাজত্ব করতেন। গৌড় রাজ্যের বিস্তৃতির ফলে মালবের পরবর্তী গুপ্তদের রাজত্বের অবসান ঘটে।