Maukhari Dynasty: কনৌজের মৌখরি বংশ

মৌখরি বংশের ম্যাপ
৫৯০ খ্রিস্টাব্দে মৌখরি অঞ্চলের আনুমানিক পরিমাণ
গুপ্তোত্তর যুগে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে কনৌজের মৌখরি বংশ (Maukhari Dynasty) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৌখরিরা একটি প্রাচীন ক্ষত্রিয় রাজবংশ। তাদের মহাভারতের মদ্ররাজাদের বংশােদ্ভূত বলে দাবি করা হয়। পাণিনি ও পতঞ্জলির রচনা এবং পুরাণে ‘মৌখরি’ কথাটির উল্লেখ পাওয়া যায়। মৌর্য যুগেও তারা যথেষ্ট পরিচিত ছিল। তারা তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়ে উত্তর ভারতের কনৌজ, বিহারের গয়া ও রাজস্থানের কোটা অঞ্চলে বসবাস করত। এদের মধ্যে কনৌজের মৌখরি বংশই গুপ্তদের পতনের পর উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজকাহিনী: কনৌজের মৌখরি বংশের প্রথম তিনজন রাজা হলেন হরিবর্মন, আদিত্যবর্মন, ঈশ্বরবর্মন। এঁদের উপাধি ছিল ‘মহারাজা’। মনে হয় এরা ‘পরবর্তী গুপ্ত’-দের সামন্ত ছিলেন। পরবর্তী মৌখরি রাজারা — ঈশানবর্মন, সর্ববর্মন ও অবন্তীবৰ্মন ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করেন। মনে হয় যে, তারা স্বাধীন নরপতি ছিলেন। এই বংশের প্রথম স্বাধীন রাজা ঈশানবর্মন অন্ধ্র, উড়িষ্যা, মগধও গৌড়দখল করেন।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের অবশিষ্ট অঞ্চল দখলের জন্য ঈশানবর্মনের আমল থেকেই মৌখরি বংশ ও পরবর্তী গুপ্তদের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের সূচনা হয়। অবন্তীবৰ্মন পরবর্তী গুপ্তদের হাত থেকে মগধ অধিকার করেন। মৌখরি বংশের শেষ রাজা ছিলেন অবন্তীবর্মনের পুত্র গ্রহবর্মন। তিনি থানেশ্বরের পুষ্যভূতি-বংশীয় রাজা প্রভাকরবর্ধন -এর কন্যা রাজ্যশ্রী -কে বিবাহ করেন। এই বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে দুটি রাজবংশই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে মালবের পরবর্তী-গুপ্তবংশীয় রাজা দেবগুপ্ত গৌড়-রাজ শশাঙ্কের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে একটি পাল্টা শক্তিজোট গঠন করেন।

থানেশ্বর-রাজ প্রভাকরবর্ধনের মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠপুত্র রাজ্যবর্ধন থানেশ্বরের সিংহাসনে বসেন। এসময় মালব-রাজ দেবগুপ্ত ও গৌড়াধিপতি শশাঙ্ক যুগ্মভাগে কনৌজ আক্রমণ করে গ্রহবর্মনকে পরাজিত ও নিহত করেন (৬০৬ খ্রিঃ)। এর ফলে মৌখরি শক্তি চিরতরে বিলুপ্ত হয়। পরবর্তীকালে পুষ্যভূতি-রাজ হর্ষবর্ধন কনৌজকে নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।