Vakataka Dynasty: বাকাটক বংশ, ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যে

বাকাটক বংশ
৩৭৫ খ্রিস্টাব্দে বাকাটক অঞ্চলের আনুমানিক পরিমাণ

খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের মধ্যভাগে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সমসাময়িক কালে মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ নিয়ে বাকাটক (Vakataka) রাজ্য গড়ে ওঠে। খ্রিস্টীয় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শতকের মধ্যে দাক্ষিণাত্য যে সব শক্তিশালী রাজ্য গড়ে ওঠে তার মধ্যে বাকাটক রাজ্যই ছিল সর্বশ্রেষ্ট। বাকাটক বংশের (Vakataka Dynasty) প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিন্ধ্যশক্তি (Vindhyashakti)। এই বংশের এক তাম্রফলকে তাকে ‘বাকাটক-বংশকেতু’ বলে আভহিত করা হয়েছে। বাকাটকদের বংশপরিচয়, আদি বাসস্থান সবই অনিশ্চিত।

রাজকাহিনি: বিন্ধ্যশক্তির পুত্র প্রবরসেন (আঃ ২৭৫-৩৩৫ খ্রিঃ) ছিলেন বাকাটক বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নর্মদা পর্যন্ত রাজ্যবিস্তার করেন। তার রাজধানী ছিল পুরীক। তিনি চারটা অশ্বমেধ যজ্ঞ করে ‘সম্রাট’ উপাধি নেন। তিনি গোঁড়া ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সমর্থক ছিলেন। প্রবরসেনের পর প্রথম রুদ্রসেন, পৃথিবীসেন ও দ্বিতীয় রুদ্রসেন বাকাটক সিংহাসনে বসেন। গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বাকাটক-রাজ দ্বিতীয় রুদ্রসেনের সঙ্গে নিজ কন্যা প্রভাবতীর বিবাহ দেন। বাকাটক ও গুপ্ত বংশের এই বৈবাহিক সম্পর্ক দুই রাষ্ট্রকেই নিরাপত্তা দেয়। বাকাটক শক্তির উপর নির্ভর করেই দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত পশ্চিম ভারতে রাজত্বকারী শক-ক্ষত্রপদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন এবং ভারত থেকে তাদের বিতাড়িত করেন। কিছুকাল পর দ্বিতীয় রুদ্রসেনের মৃত্যু হলে প্রভাবতীগুপ্ত তার নাবালক পুত্র দিবাকরসেন -এর অভিভাবিকা হিসেবে রাজ্য-পরিচালনা করতে থাকেন। এ সময় বাকাটক রাজ্যে গুপ্তদের প্রভাব প্রবলভাবে বৃদ্ধি পায়। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের মধ্যভাগে দক্ষিণ ভারতের কলচুরি শক্তির হাতে বাকাটকদের পতন হয়।

সাংস্কৃতিক অবদান: ধর্ম, সাহিত্য ও শিল্পের ইতিহাসে বাকাটকদের ভূমিকা ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ।

(১) বাকাটক রাজারা গোড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তাদের অনেকেই ছিলেন শিবের উপাসক। একমাত্র দ্বিতীয় রুদ্রসেন ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। তারা রাজ্যে যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান করতেন, মন্দির নির্মাণ করতেন এবং ব্রাহ্মণদের ভূমিদান করতেন।

(২) বাকাটক রাজন্যবর্গ বিদ্যা ও বিদ্বানের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন। রাজাদের অনেকেই সাহিত্যচর্চা করতেন এবং সাহিত্যক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। রাজা সর্বসেন হরিবিজয় নামে একটি প্রাকৃত কাব্য রচনা করেন। তার রাজধানী শিক্ষা সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। বাকাটক-রাজ দ্বিতীয় প্রবরসেন প্রাকৃত ভাষায় বেশ কিছু কাব্য রচনা করেন। এগুলির মধ্যে সেতুবন্ধন কাব্য উল্লেখযােগ্য। বলা হয় যে, মহাকবি কালিদাস কিছুকাল তার রাজসভায় অবস্থান করে মেঘদূত কাব্যটি রচনা করেন।

(৩) স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপােষক হিসেবেও তাদের ভূমিকা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। তিগােয়ার মন্দির, সেখানে সংরক্ষিত গঙ্গা-যমুনার মূর্তি এবং অজন্তার বিহার ও গুহা-চৈত্যগুলি এ যুগের শিল্পকীর্তির উল্লেখযােগ্য উদাহরণ।